আপনার মোবাইল এ এক সাথে ১৬ টি সিম ব্যাবহার করুন

আপনার মোবাইল এ এক সাথে ১৬ টি সিম ব্যাবহার করুন
বার বার সিম পরিবতন করতে করতে আপনার সিম এবং মোবাইল এর বার টা বেজে গেছে?
আপনি চাইলে আপনার সিম গুলো এক সাথে আপনার মোবাইল এ ব্যাবহার করতে পারেন
কি ভাবে?
সুপার সিম বা সিম মাক্স নামক এক প্রকার সিম আছে যাতে ৬ থেকে ১৬ টি সিম এক সাথে
কপি করে ব্যাবহার করা যায়

কি কি লাগবে?
১। সুপার সিম
২। সিম রিডার
৩। সফটয়্যার

কি ভাবে কাজ করে?
সিম কার্ডে ব্যবহার কারীকে সনাক্ত করতে কিছু তথ্য থাকে। এগুলো হল:
* ICCID: Integrated Circuit Card ID
8988012345678912345F এরকম একটি কোড। এটি সিমের গায়ে লেখা থাকে।
* IMSI: “International Mobile Subscriber Identity”
470-01 084930321003457820 এরকম একটি কোড।
* KI: Authentication Key
A8-0B-FF-6F-0C-28-D5-37-00-E1-40-2A-0E-0A-E9-BA
এরকম একটি হেক্সাডেসিমাল কোড।

একটি সিমের এই ইনফরমেশন গুলো জানতে পারলেই আপনি সেই সিমের ক্লোন তৈরি করতে পারবেন। ক্লোন সিম আপনি মুল সিমের মতই ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ মূল সিমটি ব্যবহার না করে ক্লোন থেকেই কল করা বা সব কাজ করতে পারবেন। আর এই ইনফরমেশন গুলো ক্লোন করে যে সিমে প্রবেশ করাবেন তা হল সুপার সিম। সুপার সিম গুলো সাধারনত চাইনা থেকে আসে। এবং একটি সুপার সিমে সাধারণত ৬ থেকে ১৬ টি সিমের ক্লোন একসাথে রাখা যায়। সিমটি দেখতে অন্যান্য সিমের মতই। তবে এই সিমের সকল ইনফরমেশন বার বার মুছে আবার নতুন করে প্রবেশ করানে যায়। ইনফরমেশন গুলো আলাদা আলাদা ব্লকে থাকে। আপনি সিমটি চালু করার পর সেট থেকে STK অপশনে গেলে যে ক্লোনগুলো থাকবে তার একটা লিস্ট পাবেন। সাধারণত Switch Number এই অপশন থাকে। সেখান থেকে যে নাম্বারটি সিলেক্ট করবেন সেই নাম্বারটি চালু হবে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল KI. বাকিগুলো সহজেই বের করা যায়। কিন্তু KI বের করতে হলে আনেক জটিল এলগরিদম ব্যবহার করতে হয়। সিম এর আবার দুই ধরণের টেকনোলজি আছে। V1 এবং V2. বর্তমানে যেসব সিম আমরা কিনি সবই V2. কিন্তু আগে গ্রামীন এবং বাংলালিংক V1 সিম দিত। V2 ক্লোন করা এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। কারন এর KI বের করার এলগরিদম এখনো কেউ বের করতে পারেনি। এতে KI ইনফরমেশন গুলো জটিল ভাবে এনক্রিপ্টেড থাকে। যাদের কাছে এখনো V1 সিম আছে তারাই ক্লোন করতে পারবেন। এজন্য যে কিট গুলো মার্কেটে পাবেন সেখানে একটি সুপার সিম, একটি সিমকার্ড রিডার এবং একটি সফ্টওয়্যার সিডি। দাম ৭০০ টাকার মতো।

কাযপ্রনালি

* সুপার সিমের সফ্টওয়্যার এবং রিডারের ড্রাইভার ইন্সটল করার পর সিম স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে KI ইনফরমেশন বের হলে ওটা একটা ডাটা ফাইল হিসেবে সেভ করতে হয়। সেভ করার সময় পাসওয়ার্ড দিলে ভালো। তাহলে এই ডাটা আর কেউ ব্যবহার করতে পারবেনা। KI ইনফরমেশন বের করার জন্য ১০ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা লাগতে পারে। এরপর রিডারে সুপার সিম ঢুকিয়ে ডাটা গুলো এক একটি ব্লকে রাইট করে দিলেই কাজ শেষ। সিম ঢুকানো বা বের করার সময় রিডারটি কম্পিউটার থেকে আগে খুলে নিন। না হয় সিমটি সাথে সাথেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সফ্টওয়্যার এর কার্যপ্রনালী বিস্তারিত লিখছিনা। কারন এটি খুব সহজ। ইন্সটল করলেই বুঝতে পারবেন কি করতে হবে।

* আপনার সিম যদি অন্য কেউ ক্লোন করে ফেলে তবে আপনার সিমটি আপনি যেমন ব্যবহার করবেন তেমনি সেও ব্যবহার করতে পারবে। এভাবে আপনার নাম্বারটির অপব্যবহার হতে পারে যা আপনি হয়তো বুঝবেনও না। মনে করুন একসাথে একই সিমের একাধিক কপি চালু আছে। এ সময় কেউ ওই নাম্বারে কল করলে সর্বশেষ যে সিমটি অন করা হয়েছে বা সর্বশেষ যেটি থেকে কল করা হয়েছে সখানে কল যাবে। অন্য গুলোতে নেটওয়ার্ক থাকবে কিন্তু সেগুলোতে কল আসবেনা। আবার একটিতে কেউ কথা বলার সময় আন্যটি থেকে যদি কেউ কল করে তবে প্রথমটি বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বিতীয়টি কাজ করা শুরু করবে। তবে একই যায়গায় (একই বিটিএস এর কাভারেজে) থেকে একটিতে ভয়েস আরেকটিতে ডাটা এর কাজ করেছি আমি। আমার রুমে একটি কপি দিয়ে ইন্টারনেট এবং একই সাথে আরেকটি কপি দিয়ে কথা বলেছি। ইন্টারনেটের কোন সমস্যা হয়নি। তবে এক সাথে আরেকটিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করলে প্রথমটিতে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এবং আলাদা আলাদা বিটিএস এর কাভারেজে থাকলে ভয়েস এবং ডাটা আলাদা ব্যবহার করা যাবেনা। আপনার সিমটি যদি গ্রামীনের ০১৭১১, ০১৭১২, ০১৭১৬ এবং ০১৭১৩ ও ০১৭১৫ (এর কিছু কিছু) হয় এবং আপনি অন্তত ২০০৩ সালের পর আর সিম রিপ্লেস না করে থাকেন তবে আপনার সিমটি V1 সিম। বাংলালিংক এর ০১৯১১, ০১৯১২, ০১৯১৩, ০১৯১৪ সিম গুলো V1 সিম। যা ক্লোন করা সম্ভব। এখন আপনার সিমটি যদি কেউ ক্লোন করে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকে তবে আপনি সিম রিপ্লেস করে নিলে আর আগের সিম বা ক্লোন কোনটাই কাজ করবেনা। কারন নতুন সিমে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইনফরমেশন থাকবে এবং আপনি পাবেন V2 রিপ্লেসমেন্ট। যা আপাতত ক্লোন করা সম্ভব নয়। এছাড়া আপনি যদি সুপার সিম ব্যবহার করে থাকেন অবশ্যই সিমে পিনকোড দিয়ে রাখবেন যেন হারিয়ে গেলে সব গুলো রিপ্লেস করা না লাগে। আমি 16 in One সুপার সিম সহ হারিয়েছিলাম। কিন্তু পিনকোড দেয়াছিল তাই কোন সমস্যা হয়নি। অতিরিক্ত সুপারসিম মার্কেটে পাওয়া যায়, রিডার ছাড়া। ওটা কিনে এনে আবার ক্লোন ডাটা দিয়ে সিম ব্যবহার করছি।

* সুপার সিম গুলোর ২টা পিন থাকে একটা সাধারন পিন আরেকটা এসটিকে পিন। দুটোই সাধারণত ০০০০ থাকে। প্রথম পিনটি সেট অন করার সময় বা লিস্ট থেকে নাম্বার সুইচ করার সময় লাগে। এসব সিমে একটা সাধারণ ফোনবুক ও এসএমএস স্টোরেজ এবং একটা এসটিকে ফোনবুক ও এসএমএস স্টোরেজ থাকে। এগুলো সুইচ করার অপশন থাকে। প্রথম পিনকোড অফ করা থাকলেও এসটিকে পিনকোডটি কিছু কিছু কাজের সময় বলতেই হবে। সেমন এসটিকে ফোনবুকে যেতে চাইলে অবশ্যই এসটিকে পিন দিতে হবে। আর যদি প্রথম পিন এনাবল করা থাকে তবে ওটাও দিতে হবে। দুটি পিনকোডই পরিবর্তন করে নিন। ঝামেলা এড়াতে দুটি পিনে একই কোড ব্যবহার করুন। পাক কোড পাবেন সিম কার্ড হোল্ডার এর বডিতেই। পিনকোড লিখা নাও থাকতে পারে।
বিস্তারিত জানতে মেইল অথবা কল করুন
০১৭২২২৩৭৯৭৩
johnautomation1@gmail.com

3 thoughts on “আপনার মোবাইল এ এক সাথে ১৬ টি সিম ব্যাবহার করুন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s